কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শিশুসহ ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে আটজন বাংলাদেশি। এছাড়া ১৫ জন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দিবাগত রাত ২টার দিকে শহরের মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে আগুন লাগে। আগুনের চেয়ে ধোঁয়ায় পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে বলে ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে।

শনাক্ত হওয়া মৃত ব্যক্তিরা হলেন কুষ্টিয়া সদর উপজেরার আরুয়াপাড়ার দেবাশিস দত্ত (৩৭), তার শিশুসন্তান শর্ণশিষ দত্ত (২)। একই এলাকার আফসানা শিম্মিন (২৫)। একই উপজেলার থানাপাড়া এলাকার ইয়াসিন আলীর ছেলে মো. আকরাম আলী (৬৪)। এ ছাড়া ঢাকার সাভারের বেগুনবাড়ি এলাকার শিশু আহমেদ বাবু (২) এবং ভারতের ঝাড়খণ্ডের গিরিডি জেলার ১৯ বছর বয়সী তরুণ সন্দীপ পাসওয়ান।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া বাকি তিনজনের পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। তাদের নাম-পরিচয় নিশ্চিত করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। তবে নিহত ৯ জনের শরীরে বড় ধরনের পোড়া দাগ পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিষাক্ত ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, আগুনের সময় অনেকে ধোঁয়া থেকে বাঁচতে বাথরুমে আশ্রয় নিয়েছিলেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ল্যাডার ব্যবহার করে ভবনের বিভিন্ন অংশ থেকে আটকে পড়াদের উদ্ধার করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভবনের ভেতরে নিয়ম বহির্ভূতভাবে ঘর তৈরি করা হয়েছিল। কলকাতা পৌরসভার অনুমোদিত ভবন পরিকল্পনার নিয়ম মানা হয়েছিল কিনা, তা নিয়েও তদন্তের দাবি উঠেছে।

বুধবার সকালে ঘটনাস্থলে যান পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় এবং দমকল প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী। তিনি বলেন, কীভাবে ওই ভবনে হোটেল চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল এবং কীভাবে ব্যবসার অনুমতি মিলেছিল, তা তদন্ত করে দেখা হবে। তিনি এ ঘটনাকে আগের তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের সময়কার অনিয়মের ফল বলেও মন্তব্য করেন।

অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, ভবনের অনুমোদন এবং অগ্নিনিরাপত্তা বিধি মানা হয়েছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখতে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য কমিটি গঠনের কথাও জানানো হয়েছে। তবে তদন্তের ফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত ভবনটির অনুমোদন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ঠিক কী ধরনের অনিয়ম ছিল, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।